ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ১,৮৬৮ জন
![]() |
ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ায় সতর্ক থাকার পরামর্শ |
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০১
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন। এ সময় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২০১ জনের।
চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬২ হাজার ১১৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৫৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সেপ্টেম্বরেই মৃত্যু ১০৪ জনের
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা সেপ্টেম্বর মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৫২১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা মহানগরীতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশাবাহিত এই রোগ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা জরুরি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার বংশবিস্তার রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করা উচিত। ফুলের টব, বালতি, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে।
এ ছাড়া দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার চেষ্টা করা প্রয়োজন। জ্বর বা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সচেতনতার বিকল্প নেই
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রকাশিত তথ্য।

